শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
আগামী ৯ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা। তার মতে, ওই সময়ের মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে নারীদের নিয়ে আয়োজিত উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
আমির হামজা অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়াতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নারীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়- যাদের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র হয়েছে, শেষ পর্যন্ত তারাই রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের উদাহরণ টেনে বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তারাই রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দেশে শান্তি ও মানবিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে আমির হামজা বলেন, ডা. শফিকুর রহমান একজন মানবিক নেতা, যার কাছে দল-মত, ধর্ম-বর্ণের কোনো বিভাজন নেই। তিনি ক্ষমতায় এলে সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বলে দাবি করেন তিনি।
নারীদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে জামায়াত প্রার্থী বলেন, ঘরে বসে সম্মানজনক উপায়ে আয় করার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জরুরি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি শান্ত বাংলাদেশ গড়তেই জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
সন্ত্রাস পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন আমির হামজা। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া জেলায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রবণতা রয়েছে, যা কঠোরভাবে দমন করা হবে। তার দাবি, জামায়াত ক্ষমতায় এলে মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।
শেষে তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিন গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আফসোস করতে হবে। মানুষের তৈরি আইনের পরিবর্তে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি ভোটারদের পাশে থাকার অনুরোধ করেন।