শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন
‘এসেছে ভাষার মাস/বক্তৃতাতে হবে চাষ/অন্য মাসে ভাষা নেই!/ভাষা কেবল ফাল্গুনেই।’—এগুলো কল্পিত কবির কবিতার চরণ। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাস এলেই ভাষা নিয়ে যে অনুষ্ঠান সর্বস্ব আয়োজন সম্পন্ন হয়, উদ্ধৃত চরণগুলো যেন তারই ইঙ্গিতবহ। কয়েকটি মাস এবং কিছু তারিখ আছে, যেগুলো উচ্চারণের সাথে সাথেই উদ্ভাসিত হয় বাঙালির বিসর্জন ও অর্জনের ইতিহাস।
ফেব্রুয়ারি এবং একুশ তেমনই এক ইতিহাসের স্মারক। আত্মত্যাগ ও অর্জনের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে নানা আয়োজন যেমন প্রয়োজন, তেমনি আনুষ্ঠানিকতাও থাকা দরকার। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের মতো মৌলিক ঘটনাকে কেবলই অনুষ্ঠান সর্বস্ব করে তোলা যেন বাঙালির বহু ‘আত্মঘাতী প্রবণতারই’ অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যাচ্ছে। এই প্রবণতা বহু বছর ধরেই চলমান।
সাতচল্লিশে ভারতবর্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ‘স্বপ্নরাষ্ট্র’ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অব্যবহিত পরই কেন বাঙালির ভাষাকে কেন্দ্র করে অমন প্রগতিশীল একটি আন্দোলন করতে হয়েছিল? সেই ইতিহাস খুঁজতে গেলে আমরা দেখি, সবার রাষ্ট্র পাকিস্তান সবার অধিকার তো দূরের কথা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকেই অধিকার-বঞ্চিত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। ১৯৪৮ সালে শুরু হয়ে বিভিন্ন পর্যায় শেষে ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে।