Dhaka ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শেষ না হতেই শিশু শ্রমিক!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮ Time View
১৫

‘ইশকুলেও যাই নাই, পড়ালেহাও করি নাই। করমু ক্যামনে? ছোডকালে ভাইরে রাকতাম। মায় কামে যাইত। আর এহন নিজেই গার্মিসে কাম করি।’

রাজধানীর হাজারীবাগ বস্তির ১৫ বছরের সীমা এভাবেই তার বিদ্যালয়ে না যাওয়ার গল্প বলছিল। পোশাকশ্রমিক সীমা কখনো স্কুলে যায়নি। সীমার মা সুমি বেগম বললেন, ‘গরিবে চাইলেও পড়ান যায় না। হাজারডা অসুবিদা থাহে।’

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বস্তিতে পরিবেশগত কারণে শিশুদের পড়াশোনার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে প্রি-প্রাইমারি স্কুল পরিচালিত হলেও সেখানে শিশুদের নিয়মিত উপস্থিতি কম। যাদের পড়ালেখা মূলত প্রাথমিকের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। স্কুলে যাওয়ার দিক দিয়ে ছেলে শিশুর চেয়ে মেয়ে শিশুরা এগিয়ে।

সম্প্রতি রাজধানীর হাজারীবাগ বস্তি, কমলাপুর রেললাইন বস্তি, মোহাম্মদপুর বরকতের বস্তি, বেড়িবাঁধ মাস্টারের বস্তি, আগারগাঁও করিমের বস্তি, কুমিল্লা বস্তি, বিএনপি বস্তি, কড়াইলে রাজ্জাকের বস্তি, বেলতলা বস্তি ও গোডাউন বস্তি ঘুরে দেখা গেছে, বস্তিতে মেয়ে শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে রয়েছে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা। এর মধ্যে অভিভাবকদের অভাব অনটন মেয়েশিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়।

জীবন ও জীবিকার তাগিদে অনেক মেয়েশিশুই স্কুলে যেতে পারে না কিংবা ঝরে পড়ে। বস্তিতে ছেলেশিশুর তুলনায় মেয়েশিশুরা কম বয়সে উপার্জন শুরু করে। একটু বড় হলেই বাসায় গৃহকর্মীর কাজে লেগে যায়। বয়স ১২-১৩ হলেই পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রাথমিক শেষ না হতেই শিশু শ্রমিক!

Update Time : ০৯:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৫

‘ইশকুলেও যাই নাই, পড়ালেহাও করি নাই। করমু ক্যামনে? ছোডকালে ভাইরে রাকতাম। মায় কামে যাইত। আর এহন নিজেই গার্মিসে কাম করি।’

রাজধানীর হাজারীবাগ বস্তির ১৫ বছরের সীমা এভাবেই তার বিদ্যালয়ে না যাওয়ার গল্প বলছিল। পোশাকশ্রমিক সীমা কখনো স্কুলে যায়নি। সীমার মা সুমি বেগম বললেন, ‘গরিবে চাইলেও পড়ান যায় না। হাজারডা অসুবিদা থাহে।’

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বস্তিতে পরিবেশগত কারণে শিশুদের পড়াশোনার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে প্রি-প্রাইমারি স্কুল পরিচালিত হলেও সেখানে শিশুদের নিয়মিত উপস্থিতি কম। যাদের পড়ালেখা মূলত প্রাথমিকের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। স্কুলে যাওয়ার দিক দিয়ে ছেলে শিশুর চেয়ে মেয়ে শিশুরা এগিয়ে।

সম্প্রতি রাজধানীর হাজারীবাগ বস্তি, কমলাপুর রেললাইন বস্তি, মোহাম্মদপুর বরকতের বস্তি, বেড়িবাঁধ মাস্টারের বস্তি, আগারগাঁও করিমের বস্তি, কুমিল্লা বস্তি, বিএনপি বস্তি, কড়াইলে রাজ্জাকের বস্তি, বেলতলা বস্তি ও গোডাউন বস্তি ঘুরে দেখা গেছে, বস্তিতে মেয়ে শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে রয়েছে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা। এর মধ্যে অভিভাবকদের অভাব অনটন মেয়েশিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়।

জীবন ও জীবিকার তাগিদে অনেক মেয়েশিশুই স্কুলে যেতে পারে না কিংবা ঝরে পড়ে। বস্তিতে ছেলেশিশুর তুলনায় মেয়েশিশুরা কম বয়সে উপার্জন শুরু করে। একটু বড় হলেই বাসায় গৃহকর্মীর কাজে লেগে যায়। বয়স ১২-১৩ হলেই পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করে।